Monday, 14 September 2026, am 10:38
Monday, 14 September 2026, am 10:38

মনু নদীর চর কেটে বালু লুট : কর্তৃপক্ষের দায়সারা জবাব

শেয়ার করুন

কুলাউড়া প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নদীশাসন আইন অমান্য করে মনু নদীর চর কেটে বালু বিক্রির মহোৎসব চলছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা দীপক দের মাধ্যমে মনু নদীর ধলিয়ার চর এলাকা থেকে কয়েক কোটি টাকার বালু রাজাপুর সেতুর সংযোগ সড়কের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে জামিল ইকবাল নামে সিলেটের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। গত বুধবার বিকেলে উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর সেতু সংলগ্ন ধলিয়ার চরে সরেজমিনে গিয়ে বালু নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। এতে বড় ধরনের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।

জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মনু নদীর বালুমহাল ইজারা নেন চুনারুঘাট উপজেলার সাটিয়াজুরী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদের স্ত্রী নাজমুন নাহার লিপি। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে ব্যাবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলে কুলাউড়ার বাসিন্দা দীপক দে বালুমহালে একক আধিপত্য গড়ে তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানায়, বছরখানেক ধরে মনু নদীর আলীনগর ও উপরিভাগ মৌজার ধলিয়া চর এলাকা থেকে প্রায় তিন কোটি টাকারও বেশি বালু চুরি করে বিক্রি করেছে দীপক দে ও জামিল ইকবাল নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে সখ্য থাকার কারণে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যান দীপক দে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে তিনি অবৈধভাবে মনু নদীর ওপর নির্মিত রাজাপুর ও কটারকোনা সেতুর নিচ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। প্রশাসনের কয়েক দফা অভিযানে ১০ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হলেও ক্ষান্ত হননি বালু ব্যবসায়ী দীপক দে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবালের ম্যানেজার আকাইদ হোসেন বলেন, ‘আমরা বৈধভাবে বালু ক্রয় করে সড়কের কাজে ব্যবহার করছি। চলমান কাজের বালু সরবরাহকারী দীপক দে আমাদের বালু দিচ্ছেন। তিনি কিভাবে দিচ্ছেন, সেটি জানার বিষয় না।’

এ বিষয়ে দীপক দে বলেন, ‘আমি নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করছি, কিন্তু অনেক সময় টাকার জন্য

নিয়মবহির্ভূত হয়ে যায়। কেউ এটা নিয়ে লেখালেখি করলে প্রশাসন এসে অভিযান করলে জরিমানা দিতে হয়। আমি যদি রাজাপুর ব্রিজের নিচ থেকে বালু চুরি করে উত্তোলন করি, তখন প্রশাসন আমাকে এসে হয়তো সাজা বা জরিমানা করবে, এটাই নিয়ম। আর যদি হাতেনাতে ধরতে না পারে, তাহলে তো আমি চুরি করে বেঁচে গেলাম, এটাই ব্যবসার নিয়ম।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবগত করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন, ইজারাদার বাইরে গিয়ে যদি নদীর তীরবর্তী চর থেকে বালু উত্তোলন বা বিক্রি করেন, তাহলে বিষয়টি উপজেলা ও জেলা প্রশাসন দেখবে।

সাম্প্রতিক

আরো পড়ুন